সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন- ধারাবাহিক বাংলা টিউটোরিয়াল



সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন- বাংলা টিউটোরিয়াল

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলতে বুঝায় সার্চ ইঞ্জিনের কাছে নিজের কাংখিত সাইটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা। লক্ষ্য করলে দেখবেন শুধুমাত্র ভালো মানের সাইটই না, খারাপ মানের সাইটও গুগোল সার্চে আগে দেখায়। এটা সম্ভব হয় এস ই ও এর কারণে।
আপনি যে ধরণের ভিজিটর আপনার সাইটের জন্য পেতে চান, ঠিক সেরকম ভিজিটর সবচেয়ে সহজে শুধু সার্চ ইঞ্জিন থেকেই আসতে পারে। এস ই ও করলে আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে না, এমনিতেই ভিজিটর আপনার সাইটে সার্চ করে চলে আসবে।

এস ই ও- এটা কেন কতে হবে?

  • কোয়ালিটি ভিজিটর পাওয়ার জন্যঃ আপনি আপনার সাইটে হয়ত সিনেমার রিভিউ লেখেন। আপনি চাইবেন না আপনার সাইটে কেউ ক্রিকেট খেলার খোজ নিতে আসুক। এস ই ও করলে ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট বিষয়ে সার্চ দিয়ে ভিজিটর আসবে। তারা হতাশ হবেনা, কারণ তারা আপনার সাইটে যেটা খুজতে এসেছিলো সেটাই পাচ্ছে।
  • বেশী বেশী ভিজিটর পাওয়ার জন্য। ওয়েবসাইটের এড্রেস লিখে আর কতজন ভিজিট করে। আমি দেখেছি facebook.com লিখে মানুষ ফেসবুক ব্যাবহার করছে। সার্চ ইঞ্জিনে প্রথমদিকে আপনার সাইট রাখতে পারলে সহজে বেশী ভিজিটর পাবেন।
  • আরেকটা পদ্ধতি হচ্ছে এড দিয়ে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনা, সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে গুগোল এডসেন্স থেকে আয় কম হবে। Organic Search সবসময় এডসেন্সের কাছে বেশী গুরুত্ব পায়। এটা যেকোন এডমিডিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সিরিজ
পর্ব-০১ঃ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন কি? এটা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা
পর্ব- ০২ঃ অন পেজ এস ই ও 
পর্ব-০৩ঃ অফ পেজ এস ই ও 
পর্ব- ০৪ঃ হোয়াইট  হ্যাট এস ই ও
পর্ব-০৫ঃ ব্ল্যাক হ্যাট এস ই ও
পর্ব-০৬ঃ এংকর টেক্সট এর মাধ্যমে লিংক শেয়ার করার উপায়
পর্ব-০৭ঃ Yahoo Answers এ লিংক শেয়ার করার উপায়
পর্ব-০৮ঃ Quora তে লিংক শেয়ার করার উপায়
পর্ব-০৯ঃ এস ই ও তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব
পর্ব-১০ঃ নিজের সাইটের পোস্টগুলোর মাঝে কিভাবে লিংক করা উচিত
পর্ব-১১ঃ পেজ অথরিটি এবং ডোমেইন অথরিটির গুরুত্ব

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখাটা কি খুব কঠিন

মোটেও না। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, একটি ওয়েবসাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এর কনটেন্টের মাণ। বিজ্ঞাপন দিয়ে বা, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে আপনি ভিজিটর আনতে পারবেন কিন্তু, রাখতে পারবেন না যদি আপনার সাইটের কনটেন্ট মাণহীন হয়। তাই, নিজের সাইটের এস ই ও করার আগে ভালো মাণের কনটেন্ট এ সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরি করুন। অথবা, অন্য কোন সেবার জন্য ওয়েবসাইট হলে সেই সেবাটা আগে নিশ্চিত করুন। 
এস ই ও শেখা খুবই সহজ, শুধু আমাদের টিউটোরিয়াল ফলো করলেই আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। তাছাড়া, নিজের প্রয়োজনে অনেক কিছু আপনি গুগোলে সার্চ দিয়েও জানতে পারবেন। প্রথমে একটি ওয়েবসাইত তৈরি করুন যেটাতে লোডিং টাইম কম হয় অর্থাৎ, ভিজিট করতে সময় কম লাগে। এরপর সেটাতে কনটেন্ট যোগ করুন, সার্চ ইঞ্জিন যেমন- গুগোল, বিং, ইয়াহু ইত্যাদিতে সাবমিট করুন। ওয়েবসাইটের সাথে এর সাইটম্যাপও সাবমিট করতে হয়। এরপর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, বিখ্যাত ওয়েবসাইট ইত্যাদিতে আপনার ওয়েবসাইটের  লিংক শেয়ার করুন। আপনার সাইট খুব দ্রুত সার্চ ইঞ্জিনে উপরের দিকে উঠবে। 
অন পেজ নাকি অফ পেজ কোনটাকে বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিত
আমার মতে দুইটাকেই সমান গুরুত্ব দেয়া উচিত। এর মাঝে শুধু অন পেজ ও অনেক ক্ষেত্রে আপনার ভালো মাণের সাইটকে সার্চ এর রেজাল্টে আগে দেখাতে সক্ষম। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ারকেও গুগোল এখন অনেক গুরুত্ব দেয়। আর, পছন্দ হলেই মানুষ আপনার কন্টেন্ট শেয়ার দেবে।এই দুটির মধ্যে অন পেজ এস ই ও কে আমি সবসময় বেশী গুরুত্ব দেই। অন পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে হলে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এবং ডিজাইন সুন্দর করলেই চলবে। এস ই ও ফ্রেন্ডলি ডিজাইন একটা ওয়েবসাইটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। 

এস ই ও ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট কেমন হতে হবে?

এটাকে হতে হবে লাইট। অর্থাৎ, খুব কম সময়ে যাতে ভিজিটর ভিজিট করতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কিছু কিছু ওয়েবসাইট আছে যেগুলোর ডিজাইন খুব আকর্ষণীয়, কিন্তু সাইট এতটাই ভারি যে লোড হতে অনেক সময় লাগে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে হোস্টিং এর কারণে সাইট লোড হতে সময় বেশী লাগে। এজন্য, আমি Shared Hosting এর চেয়ে গুগোল ব্লগস্পট হোস্টিং ব্যাবহার করাটাকে বেশী উৎসাহিত করি। ভিজিটররা সুন্দর ডিজাইনের ওয়েবসাইট দেখে আকৃষ্ট হয়, কিন্তু গুগোল সুন্দর ডিজাইন দেখে সেই ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টে আগে দেখায় না। ওদের কাছে আগে দেখানোর মাপকাঠি হচ্ছে সাইটের লোডিং টাইম এবং লেখার সাথে কোডের অনুপাত। যে সাইটে লেখা বেশী, কিন্তু কোড কম সেটা সার্চে আগে আসে। টাইটেল, হেডিং, ওয়েবসাইটের নাম, এড্রেস এগুলো সবকিছু ভালোভাবে ভেবে চিন্তে ঠিক করা উচিত। 

লিংক বিল্ডিং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এ কতটা গুরুত্ব বহন করে?

অফ পেজ এস ই ও এর ক্ষেত্রে লিংক বিল্ডিং ই হচ্ছে একমাত্র পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের কি ওয়ার্ড এংকর টেক্সট হিবে ব্যাবহার করার চেষ্টা করবেন, সেটা পেজটিকে র‍্যাংক করতে সাহায্য করবে। সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ফেসবুক, গুগোল প্লাস, টুইটার এগুলোতে ওয়েবসাইটের প্রতিটি লেখা শেয়ার করবেন। এগুলোকে গুগোল অনেক মূল্যবাণ মণে করে। মনে করুন- ফেসবুকে আপনার কোনো একটা লেখা ভাইরাল হয়ে গেলো, সেটা কিন্তু গুগোল সার্চেও উপরে চলে আসবে। টার্গেটেড ভিজিটর পাওয়ার জন্য অবশ্যই সেই সব ওয়েবসাইট বেছে নেবেন যেগুলো আপনার সাইটের কনটেন্টের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। 
আর, এস ই ও সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের এই seo tutorial সিরিজের সবগুলো লেখা ভালোভাবে পড়ে ফেলুন। আশা করছি, আপনার অনেক সমস্যার সমাধান এখানে পেয়ে যাবেন। সমস্যা হলে নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন