রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮

ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন- প্রত্যেক ইউটিউবারের জানা উচিত


ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন নিয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে লেখা আছে ইউটিউবের নিজস্ব ব্লগে। আমরা সেই লেখা অবলম্বনে পুরো ব্যাপারটা আপনাদের জন্য সম্পূর্ণ বাংলায় তুলে আনছি। প্রায়ই দেখা যায় চ্যানেল সাসপেন্ড হচ্ছে, এর কারণ Community guideline এর violation. আপনি যদি ইউটিউবার হোন বা, ভবিষ্যতে হতে চান তাহলে অবশ্যই ভাল করে এই কমিউনিটি গাইডলাইন জেনে নেবেন।



ইউটিউব কমিউনিটিকে সম্মান করতে শিখুন

আপনি নিশ্চয়ই একটি সমাজ এবং একটি পরিবারের সদস্য। আপনার চারপাশের মানুষগুলোর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু আচরণবিধি এমনিতেই মেনে চলতে হয়। ইউটিউবেও অনেক বড় একটি সম্প্রদায়ের মত। এখানে যা খুশী তাই করতে পারবেন না। চলুন দেখে নেয়া যাক কি কি করা যাবে না-
সহিংস বা, রক্তাক্ত কিছু চলবে না: এটা হতাশা এবং অসম্মানজনক। লোকজনকে সহিংস করে তোলে এমন কিছু ইউটিউবে শেয়ার করা যাবে না। অন্যদেরকে কোনভাবে অপরাধে উদবুদ্ধ করবেন না।
এটা ঘৃণা ছড়ানোর জায়গা নয়: প্রায়শই এই কাজটি এক শ্রেণীর বিকৃত রুচির মানুষদের করতে দেখা যায়। কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ,  বয়স পরিচয় এর ভিত্তিতে কারো প্রতি এই ধরণের ঘৃণা ছড়াতে পারবেন না। আপনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য যদি হয় এই ধরণের কাজ করা, তাহলে ইউটিউব থেকে দূরে থাকুন।
স্প্যামিং এবং ভূল ট্যাগ বা, নাম দেয়া: ভিডিওর টাইটেল এবং ট্যাগ অবশ্যই প্রাসংগিক হতে হবে। একটি উদাহরণ না দিয়ে পারছি না, প্রচন্ড জনপ্রিয় একটি চ্যানেল আছে আমাদের দেশে নাম Mojar Tv. ওরা একটি ভিডিওর নাম দিয়েছে Dhaka attack full movie|....... আর ঐ ভিডিওতে আছে শুধু সাক্ষাতকার, আপনি যাবেন সিনেমা দেখতে পাবেন সাক্ষাতকার। এটাকেই বলা হয় Misleading Title. এটা থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন। ট্যাগেও অপ্রাসংগিক কিছু দিবেন না।
ক্ষতিকর এবং ভয়ংকর কনটেন্ট: এমন কোন ভিডিও দেবেন না, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। যেমন: কিছু শিক্ষামূলক  কনটেন্ট আছে যা, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এগুলোকে Age restricted করে দিতে হবে।
কপিরাইট: জেমস আপনার উপভোগের জন্য গান তৈরি করেন, ঐ গান থেকে আয় করার কোন অধিকার আপনার নেই। এরকম বিখ্যাত শিল্পিদের গান, নাটক বা, অন্য যেকোন ডিজিটাল প্রডাক্ট আপনার চ্যানেলে অনুমতি ছাড়া আপলোড করা অপরাধ, এর জন্য জেল জরিমানা হতে পারে। ইউনিক কন্টেন্ট নিজে তৈরি করুন।
থ্রেট বা, অন্যদের প্রাইভেসি নষ্ট করা: অন্যকে থ্রেট দেয়া, অপরাধ করার জন্য উসকে দেয়া বা, কারো ব্যক্তিগত তথ্য সবার কাছে অনুমতি ছাড়া তুলে ধরা অপরাধ। Prank এর নামে কিছু ইউটিউব চ্যানেল এই কাজগুলো করছে। ইউটিউব থেকে আপনি permanently banned হতে পারেন।

ইউটিউব এর কাছে অভিযোগ করুন

এই সব গাইডলাইন ভংগ না করলেও ভূল করে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ youtube আনতে পারে, সেক্ষেত্রে ওদের কাছে আবেদন করুন আপনার strike তুলে নেয়া হবে।
আর, আপনি যদি কোন ভিডিওতে এমন কিছু দেখে থাকেন, তাহলে ইউটিউবের কাছে রিপোর্ট করুন। ওরা সেটা ভালোভাবে দেখে ঐ ভিডিও creator এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
শেষ কথা: শিক্ষা এবং বিনোদনের জন্য বৈধভাবে ইউটিউব ব্যবহার করুন, সুনাম এবং টাকা দুটোই পাবেন। ছলচাতুরী করে পাওয়া সফলতা সাময়িক, দ্রুত মোহভংগ ঘটবে। আমার দেয়া তথ্যগুলো youtube এর সোর্স থেকে যাচাই করে তারপর বিশ্বাস করবেন। আপনার সফলতা কামনা করছি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন