সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১৮

ইউটিউব MCN এর সম্পর্কে প্রচলিত তথ্যের সত্য-মিথ্যা জানুন

ইউটিউব মাল্টি চ্যানেল নেটওয়ার্ক কি?

ইউটিউব এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে ইউটিউব MCN বা, মাল্টি চ্যানেল নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। এটা সম্পর্কে মানুষের ভূল ধারণাও কম না। আজকে চেষ্টা করব এরকম কিছু ভূল ধারণা দূর করতে। মাল্টি চ্যানেল নেটওয়ার্ক আসলে অনেক গুলো ইউটিউব চ্যানেলের একটা নেটওয়ার্ক যারা একসাথে চ্যানেলকে প্রমোট করার মাধ্যমে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করে।

ইউটিউব এমসিএন সম্পর্কে প্রচলিত কিছু গুজব যা সত্যি না

চলুন দেখে নেয়া যাক সেই গুজবগুলো কি- 
 ১. MCN এ জয়েন করলে এডসেন্স এর সাথে কোন সম্পর্ক থাকবে না। সত্যিটা হচ্ছে, এডসেন্স এড ছাড়া অন্য কোন এড ইউটিউবে দেখানো যায় না। MCN গুলোও তাই দেখায়, তবে নেটওয়ার্কের একাউন্টের মাধ্যমে।
 ২. এমসিএন এ জয়েন করলে Policy violate করলেও চ্যানেল ব্যান হবে না।এটা মিথ্যা, চ্যানেল ব্যান হবে যদি আপনি Community guidelines বা, Copyright Policy না মানেন। আইয়ুব বাচ্চু বা, জেমসের গান আপলোড দেয়ার কোন অধিকারা আপনার নেই। 
 ৩. আয় বেড়ে যাবে ৫ গুন। এটাও সত্যি না, আয় একটুও বাড়োবে না যদি আপনি ওদের দেয়া সুবিধাগুলো ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারেন। বরং কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে(কারণ একটা অংশ ওরা রেখে দেবে)।
 ৪. এক ডলার আয় হলেই তুলতে পারবেন। এটাও বাংলাদেশের জন্য সত্যি না, কারণ এক ডলার হলে তুলতে দেবে Paypal এ। Payoneer এ তুলতে হলে ১৫-২০ ডলার লাগবে।আর টাকা গুগোল এডসেন্স এর মতই জমা হওয়ার ১ মাস পরে তুলতে পারবেন।
 ৫. MCN এ জয়েন করলে আমার চ্যানেলের মালিক ওরা হয়ে যাবে। এটাও সত্যি না, আপনার চ্যানেল আপনারই থাকবে। শুধু দেখাবে যে আপনি ওদের নেটওয়ার্কে আছেন। 
 ৬. ১০০০০ ভিউ না হলেও জয়েন করা যাবে। এটাও সত্যি না, গুগোল যেহেতু ১০,০০০ এর কম মোট ভিউ আছে এমন চ্যানেলে এড দেখায় না, কোন MCN আপনাকে এর কমে নেবে না।

আরেকটি গুজব MCN এ জয়েন করে কোন লাভ নেই

এটা মোটেও সত্যি না। লাভ অবশ্যই আছে যদি আপনি ঠিকমত কাজে লাগাতে পারেন। কাজে লাগাতে না পারলে আয় কমে যাবে(যত কমই হোক ওরা একটা % রেখে দেবে)। যেভাবে কাজে লাগাবেন- 
 ১. MCN এ জয়েন করলে ২ ধরণের এড বেশী দেখাতে পারবেন।non skippable video ad, non skippable long video ad. দ্বিতীয়টা কখনোই দেখাবেন না, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। বড় এড দেখে ভিজিটর বিরক্ত হয়ে চলে যেতে পারে। প্রথমটা দেখাবেন, এটা আয় বাড়িয়ে দেবে কিছুটা হলেও। 
 ২. Content ID পাবেন, এটা আপনার ভিডিওকে রক্ষা করবে। অন্য কেউ চুরি করে আপনার কষ্ট করে তৈরি করা ভিডিও আপলোড করলে ঐ ভিডিওতে যা আয় হবে আপনি পাবেন। আর, চাইলে কপিরাইট ক্লেইম করতে পারবেন। MCN ছাড়া Content ID পাওয়া যায় না(যেভাবে পাওয়া যায় সেটাকে না বলাই যৌক্তিক)। টাকা দিয়ে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করলে এমনিতেই পাবেন MCN লাগবে না। 
 ৩. Outro Maker, Epoxy, Audiomicro এর মত এপ এর প্রিমিয়াম ভার্সন ফ্রীতে ব্যবহারের সুবিধা। এই সুবিধা কে ছাড়ে বলেন। ভিডিওর শেষে প্রফেশনাল চ্যানেলগুলোর মত নিজের অন্য ভিডিও রেকমেন্ড করার জন্য Outromaker এর চেয়ে ভালো কিছু নেই। Epoxy দিয়ে খুব সহজে Gif তৈরি করে এবং বিভিন্নভাবে Twitter, Facebook এগুলো থেকে ভিউয়ার বাগিয়ে নিতে পারবেন। আর Audiomicro আপনাকে দেবে অসংখ্য কপিরাইট মুক্ত মিউজিক। 
 ৪. প্রমোট করা এবং Collaborator খুজে পাওয়ার জন্য ওদের আলাদা ফোরাম থাকে। সেগুলোতেও সুবিধা পাবেন। 
 ৫. এটাকে গুরুত্বহীন মনে করছি। এভারেজ CPM এমনিতে যা পাবেন, মাল্টি চ্যানেল নেটওয়ার্কে জয়েন করলে কিছুটা হলেও বেশী পাবেন। (বাংলাদেশীদের জন্য সব জায়গাতেই অন্য দেশের তুলনায় কম)

বাংলাদেশীদের জন্য কোন MCN ভালো

Freedom, Makestudio, Fullscreen, Broadbandtv আরো অনেক মাল্টি চ্যানেল নেটোওয়ার্ক গুগোলে খুজে পাবেন। এর মধে Freedom ছাড়া কোনটাতেই বাংলাদেশ থেকে টাকা তোলার ব্যবস্থা নেই। Freedom এ আছে তাও ১০০ ডলার হলে ওদের আরেকটা Third party এর মাধ্যমে নিজেদের পারসেন্ট এর বাইরে আরো টাকা কেটে রেখে Payoneer এ টাকা দেবে। আমার মতে, Yooola বা, Scalelab এ জয়েন করা যেতে পারে। এরা Socialblade এর র‍্যাংকিং এ A+ ক্যাটাগরির এবং Payoneer এ পেমেন্ট দেয়। বাংলাদেশ থেকে সহজে টাকা পাওয়া যাবে ১৫-২০ ডলার আয় হলে। সব মিলিয়ে ১০,০০০ এর চেয়ে বেশী ভিউ আপনার চ্যানেলের ভিডিওগুলোতে থাকলে জয়েন করুন-


শেষ কথাঃ সিরিয়াসলি ইউটিউব এর জন্য ভিডিও না বানালে আপনার চ্যানেলে কোন লাভ হবে না। আপনি মাল্টি চ্যানেলে জয়েন করেন আর নাই করেন। এমন ইউনিক কিছু নিজে তৈরি করেন যা মানুষ পছন্দ করে। অন্যেরটা ডাউনলোড করে আপলোড করবেন না। ৫-৬ হাজার সাবস্ক্রাইবার হওয়ার আগে আয়ের আশা করবেন না।    

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন