সোমবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৭

এক টুকটুকির এক টুকরো জীবনের গল্প

জীবনার গল্প
photo credit: Gerd Altmann

এক টুকটুকির করুণ ইতিকথা

মির্জা তানিয়া

জমিদার বাড়ির একমাত্র কন্যা টুকটুকি।স্রষ্টা যেন মনের মতন করে অঢেল রুপ ঢেলে দিয়েছেন টুকটুকিকে।আদুরী টুকটুকির লাল টুকটুকে বেনারসীর খুব সখ ছিলো।বয়স যখন ১২ বাবা মাও বড় সখ করে ধুমধাম করে এক সুদর্শন রাজপুত্রের সাথে বিয়ে দেন রাঙা টুকটুকে সাজে সাজিয়ে।
বিয়ে কি জিনিস ভালোভাবে বোঝে না ঠিকই কিন্তু বেশ খুশি টুকটুকি।পালকি চড়ে টুকটুকে বউ এলো রাজপুত্রের গোছানো পরিপাটি জমিদার বাড়ির বধূ হয়ে।একটু একটু বড় হওয়া একটু একটু ভালোবাসা তারপর নিজেকে পরিপূর্ণ নারীর দাবীতে একসময় রাজপুত্রের হাতে নিজেকে সপে দেয়া...। এই নতুন সুখের সন্ধান পেতে না পেতেই ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম হল।বেশ সুখে কেটে গেলো আরো ১০ টি বছর.....।এর মাঝে জমিদার বাড়ি আরো আলোকিত করে জন্ম নিলো ৫টি ফুটফুটে সন্তান।কিন্তু নজর লাগলো এ সুখে।জমিদার বাড়ি ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো চিলশকুনের লোভাতুর অভিশাপে।
একদিন ভয়ঙ্কর লোমহর্ষক সেই রাতও এলো সুযোগসন্ধানী হায়েনার পক্ষ হয়ে। রোজের ন্যায় সেদিনও রাজপুত্র ব্যাবসার পাঠ চুকিয়ে সন্ধ্যা রাতে বাড়ি ফিরছিলো নির্জন সরু পথ ধরে।হঠাৎ চারিদিক ঘিরে দাঁড়ালো সৎভাই ও তার সঙ্গী রাম দা হাতে।ভয় দেখিয়ে বিশ্রী হেসে বলল অপরুপা সুন্দরী টুকটুকি ও সমস্ত সম্পত্তি সবই আজ বুঝিয়ে দিবি ! জীবন চলে গেলেও কোনদিন মাথা নত করবে না সেও সাফ জানিয়ে দিল! চরম আক্রোশে টুকরো টুকরো করে বস্তা বন্দি করে পাথর বেঁধে নদীর জলে ডুবিয়ে দিয়ে অবশেষে ক্ষান্ত ঐ নরপশু কুলাঙ্গার ! 
টুকটুকি নাওয়া খাওয়া ভুলে রাত দিন তার রাজপুত্রের অপেক্ষায় শয্যাসায়ী প্রায়।প্রতিবেশীরা টুকটুকির করুণ আর্তনাদ সহ্য করতে পারল না।তারা তন্য তন্য করে খুঁজল কিন্তু নাহ ! কোথায় হারিয়ে গেলো লম্বাচওড়া সুদর্শন মানুষটা? অবশেষে ধরা পড়ল খুনি কুলাঙ্গার সৎভাই। গনপিটুনিতে একপর্যায় সেই হৃদয়বিদারক লোমহর্ষক বিদঘুটে রাতের বর্ণনা করল সে ! শিউরে ওঠা ঘটনার বর্ণনা শুনে পুরোগ্রাম কাঁদলো অঝরধারায়.....। অবশেষে খুঁজে পেলো তারা সুন্দর তাজা যুবকের রক্তাক্ত ছিন্নভিন্ন কাপড়ের অবশিষ্টাংশ ! টুকটুকি পাথর হয়ে গেলো সুন্দর রাজপুত্রের ঐ রক্তাক্ত কাপড় বুকে আগলে তবুও অপলক তাঁকিয়ে থাকতো ফেরার ঐ সরু পথটির দিকে।
সবাইতো ভালোবাসতো টুকটুকিরে। বাবা ভাই কত বার নিতে এসেছিলো তাকে কিন্তু যায়নি সে। বোবা হয়ে একাকী নির্জনে শুধু মিছেমিছে অপেক্ষা করত। একদিন সবার অগোচরে ছোটছোট ফুটফুটে সন্তানদের তাদের দাদা দাদীর নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে শয্যাসায়ী টুকটুকিও চলে গেলো নির্মম দুনিয়া ছেড়ে রাজপুত্রের মায়াবী মায়ার লোভে.....।।। উঁহু এ কোন মনগড়া চিত্তবিনোদনের খোরাক নয় ! স্বাধীন সোনার বাংলায় আজও স্বজনহারাদের করুণ আর্তনাদ হরহামেশাই শোনা যায় !

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন