মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

ফ্রী ডোমেইন এবং হোস্টিং পাওয়ার সহজতম পদ্ধতি


ফ্রী ডোমেইন এবং হোস্টিং কোথায় পাওয়া যাবে

প্রথমেই ফ্রী ডোমেইন এবং হোস্টিং সম্পর্কে একটু ধারণা দেই। ডোমেইন হচ্ছে ঠিকানা, যে ঠিকানায় গেলে আপনার ওয়েবসাইট বা, ব্লগ পাওয়া যাবে, আর হোস্টিং হচ্ছে সেই কম্পিউটার বা, সার্ভার যেখানে আপনার শেয়ার করা ফাইল বা, লেখা বা, ওয়েবসাইট আছে। অনেকেই এটা ফ্রীতে দেয়, তাদের লাভের জন্য এটা দেয়- আপনিও আপনার লাভের জন্য ব্যবহার করবেন।

আমি কিভাবে ফ্রী ডোমেইন পেতে পারি

ফ্রী সাবডোমেইন আপনি অনেক ওয়েবসাইটে পাবেন- যেমনঃ গুগোল ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস, Wix, Weebly এরকম আরো অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা ফ্রীতে সাবডোমেইন দেয়। .tk, .ga, .ml, .co.vu এগুলো ডোমেইন এবং ফ্রীতে পাওয়া যায়। আপনি চাইলে freenom.com থেকে কয়েকটা ব্যবহার করতে পারেন।  

ফ্রী হোস্টিং কারা দেয়, কিভাবে পাব?

ফ্রী হোস্টিং গুগোলের ব্লগারে বা, ওয়ার্ডপ্রেসেও পাবেন।এই দুইটার মধ্যে ব্লগস্পট আপনাকে সাজেস্ট করবো, ফ্রীতে এটাই ভালো, টাকা দিলে ওয়ার্ডপ্রেস ভালো। কারণ, ফ্রীতে Widget ব্যবহার, কাস্টম টেমপ্লেট, ডোমেইন এগুলো ব্লগস্পটে এপ্লাই করা যায়। এছাড়া freehosting.com, infinityfree এরকম আরো অনেকের কাছেই ফ্রী হোস্টিং পাবেন। সেগুলো স্লো, আবার সবসময় চালু থাকে না, নানারকম সমস্যা থাকে।

ফ্রী ডোমেইন এবং হোস্টিং কোনটা ভালো

এককথায় ব্লগস্পট অসাধারণ- পরে বড় আকারে কোন ব্যবসা শুরু করতে চাইলে বা, উদ্যোক্তা হতে চাইলে কিংবা, শিখতে চাইলে অন্য যেকোন ফ্রী হোস্টিং নিয়ে প্রাকটিস করতে পারেন। ব্লগিং করলে ব্লগস্পটেই করেন, লাভবান হবেন। এটাতে কিভাবে একাউন্ট খোলা যাবে বিস্তারিত নিচে পড়ুন। 

কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করা যাবে

blogger.com এ যাবেন এবং একাউন্ট খুলবেন। এটা যেহেতু গুগোলের তাই, Gmail এ যদি একাউন্ট থাকে সেই একাউন্ট দিয়ে Log in করতে পারবেন। এরপরের কাজগুলো একেবারে সোজা- Create New Website বা, এ ধরণের বাংলায় কোন লেখা পাবেন সেখানে গিয়ে ওয়েবসাইটের নাম দেবেন, এড্রেস দেবেন। আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা হবে something.blogspot.com. Something বলতে যেকোন কিছু বুঝাচ্ছি। যদি ওই ঠিকানা অন্য কেউ না নিয়ে থাকে তাহলে আপনি নিতে পারবেন। অনেকগুলো এবং বিভিন্ন ধরণের টেমপ্লেট আছে সেগুলো থেকে পছন্দেরটা বেছে নিয়ে এরপর লেখা শুরু করুন।

ব্লগস্পট টিউটোরিয়াল এর পুরো সিরিজটি পড়ুন

লেয়াউট এবং টেমপ্লেটের ধারণা

লেআউট হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে সেটা। আপনি যেখানে যেটা রাখবেন সেখানে সেটা থাকবে। সেটিং এ গেলে লেয়াউট এবং টেমপ্লেটের অপশন পাবেন। লেয়াউটে গেলে দেখবেন Add Gadget লেখা আছে, সেখান থেকে আপনি অসংখ্য Gadget যোগ করতে পারবেন আপনার পছন্দমত যেটা ইচ্ছা। 
আর, টেমপ্লেট এ কাস্টমাইজ করার অপশন আছে। সেখান থেকে টেমপ্লেটের বিভিন্ন অংশের আকার, রঙ ইত্যাদি পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।এছাড়া ব্লগস্পট সাইটে কাস্টম টেমপ্লেট অন্যভাবেও এপ্লাই করা যায়।

ব্লগস্পট নাম ভাল লাগে না

ওয়েব এড্রেসে ব্লগস্পট যদি ভাল না লাগে অন্য নামও যোগ করা যায়। যেমন .tk, .co.vu এগুলো ফ্রী। এছাড়া টাকা দিয়ে যদি ডোমেইন কেনেন তাহলে .com, .net এগুলোও আপনার সাইটের এড্রেস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এই বিষয়ে আরো ভালো করে জানতে হলে - ব্লগস্পট সাইটে কাস্টম ডোমেইন  কিভাবে apply করা যায় সেই বিষয়ে আমাদের লেখা এবং ভিডিও দেখতে পারেন।

যে ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করেন না কেন, আপনার সাইটের কনটেন্টই হচ্ছে আসল, ভাল কনটেন্ট থাকলে ভিজিটর বেশী হবেই। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের ঠিকানা, ডিজাইন এবং অন্য যা কিছু আছে সব গৌণ। ওগুলো ভাল হলে লেখার মাণ যদি একই হয় তাহলে আপনি বেশী লাভবান হবেন অন্যদের চেয়ে।গুগোল এমনিতেই সার্চ রেজাল্টে আপনার সাইট দেখাবে যেহেতু এটা গুগোলের। অন্যদেরটা দেখাতে কাঠ খড় পোড়াতে হবে।আপনি চাইলে ব্লগস্পট সাইট থেকে আয় ও করতে পারবেন। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন