Custom Search

মাশরাফি বিন মর্তুজার জীবনী অভিষেক ও অন্যান্য


মাশরাফি বিন মর্তুজা- সত্যিকারের অধিনায়ক

সেই ২০০১ সালে মাশরাফি যখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলা শুরু করে তখন থেকেই আমি মাশরাফির খেলার ভক্ত। বাংলাদেশ দলে তখন সেই ছিল সবচেয়ে দ্রুত গতির বোলার, নড়াইল এক্সপ্রেস। আমার যতদূর মনে পড়ে মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু একসময় বাংলাদেশের বোলিং এর সূচনা করত, আর তার সাথে থাকত মাশরাফি। 

ঐ সময়ে খালেদ মাহমুদ সুজনের লাইন-লেন্থও চোখে পড়ার মত ছিল। এরপর বহুবার সে ইঞ্জুরিতে পড়ে এবং যোগ্য বিকল্পের অভাবে ইনজুরি থেকে ফিরেই সম্ভবত পুরোপুরি ফিট হওয়ার আগেই আবার মাঠে নামে। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে সর্বোচ্চ ৪৯ টা উইকেট নেয়া এই বলার যে সময় পুরোপুরি ফিট ছিল তখন সে বিশ্বসেরাদের একজন ছিল(র‍্যংকিং এবং দলীয় গুরুত্বে)। এখন হয়ত বোলার হিসেবে কখনো কখনো তার ছায়া দেখছি কিন্তু ক্যাপ্টেন হিসেবে বাংলাদেশ দলে সে যোগ্যতম নিঃসন্দেহে।

বাংলাদেশের প্রতিটা জয়েই মাশরাফির অবদান ছিল, early breakthrough এনে দিতে তার চেয়ে ভাল আর কে পারত। অস্ট্রেলিয়ের সাথে সোফিয়া গার্ডেনের যে ম্যাচে আশরাফুল আর হাবিবুল বাশারের ব্যাটিং এর আড়ালে বোলারদের পারফরম্যান্স ঢাকা পড়ে ছিল সেদিন মাশরাফির 3.30 economy rate এ এক উইকেট ছিল। মাহেলা জয়াবর্ধনে একবার বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছিলেন মাশরাফি হচ্ছে বাংলাদেশের Unsung Hero. ঐ সফরের টেস্ট সিরিজেই সাঙ্গাকারার মত ব্যাটসম্যানকে অফস্ট্যাম্পের বাইরের দিকে বল ফেলে ইনসুইঙ্গারে আউট করা বলার নিশ্চয়ই সাধারণ মানের নন। 

ভারতীয়রা তাকে বোলার না বলে অলরাউন্ডার বলত। আইপিএলে সাড়ে চার কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার পেছনে কারণ ছিল দুইবার ভারতকে হারানো বাংলাদেশ দলে মাশরাফির ব্যটে বলে জলে ওঠা। চট্টগ্রামের একটা বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্ট ম্যাচে রাজ্জাক আর মাশরাফির ব্যটিং এর কারণে বাংলাদেশ দল জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল(দর্শক হিসেবে আমি তো শুরু করেছিলাম)। ঐ ম্যাচে ম্যাশের চার বলে চার ছয় ছিল(ব্যাটসম্যান হিসেবে) যেটা তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য একটা ঘটনা।

বিশ্বকাপে বাদ পড়া(ফিট না থাকার কারণে-Officially), এই কারণে হরতাল, আন্দোলন, তাঁর কান্না, আবার বিশ্বকাপে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন(ক্যাপ্টেন হিসেবে)। আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলে ভাল পারফরমার থাকা সত্ত্বেও কিসের যেন অভাবে টীম নিয়মিত জিততে পারছিল না, ক্যাপ্টেন হিসেবে মাশরাফির প্রত্যাবর্তন দলকে যেন বদলে দিল। মেধা এবং সামর্থ্যে মুশফিকুর রহিমের কোন কমতি না থাকলেও আমার মনে হয় মাশরাফির আক্রমনাত্মক ক্যাপ্টেনসিই মাশরাফিকে অনন্য করে তুলেছে।  

ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাসকিন-সানি কান্ডের কারণে দলের মনোবলে কুচক্রী ক্রিকেটীয় ভাগ্যনিয়ন্তার আঘাত হয়ত আমাদের এই বিশ্বকাপ জিততে দেয়নি। ভবিষ্যতের কোন বিশ্বকাপে আমাদের প্রিয় ক্যাপ্টেনের গলায় বিজয়মাল্য শোভা পাবে সেই স্বপ্ন আমরা দেখতেই পারি।

বি.দ্র. কোন তথ্য ভূল হলে শুধরে দেবেন। সব তথ্য পরিক্ষিত নয়, তবে আমার স্মৃতিশক্তির উপর নিজের আস্থা আছে।

0 comments:

Post a Comment