অন্ধকার যুগের বাংলা সাহিত্য চর্চা


বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ

আনুমানিক ১২০০ থেকে ১৩৫০ সালের মধ্যে বাংলা সাহিত্যের কোন নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ হিসেবে এদেশে তুর্কিদের আগমণ এবং আক্রমণে তৎকালীন বিপর্যস্ত সমাজব্যবস্থাকে দায়ী করা হয় । যাদের সাহিত্য রচনা করার কথা তারা জীবন বাচানোর জন্য পালাতেই বেশী ব্যস্ত ছিল। আর যদি রচিত হয়েও থাকে তাঁর কোন অস্তিত্ব পরে আর টিকে নেই। 

শূন্য পূরাণ এবং সেক শুভদয়া নামে দুটি সংস্কৃত গ্রন্থ পাওয়া গেলেও সেগুলোর রচনাকাল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমসাময়িক শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এবং ইউসুফ জোলেখার রচনাকাল ১৩৫০ এর পরে বলেই ভাষাবিদেরা মনে করেন। 

ব্যক্তিগত মতঃ 
এক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বলে কিছু ছিল না। কারণ, এটা অসম্ভব যে ১৫০ বছরের মধ্যে বাংলায় কিছু রচিত হয়নি কিংবা রক্ষিত হয় নি। যদি ঐ সময়ের বৌদ্ধ সহজিয়ারা জীবন বাচাতে ব্যস্ত থাকেন তো তাদের রচনায় সেটাই প্রতিফলিত হবে, চর্যাপদের সময়ের আর্থিক দারিদ্র যেমন লেখায় প্রকাশ পেয়েছিল। আমার ধারণা, চর্যাপদ বাংলা ভাষার নয় এবং তথাকথিত মধ্যযুগই বাংলা সাহিত্যের শুরুর সময়  অর্থাৎ ১৩৫০ এর পরে। কেউ কেউ এই মত প্রকাশ করলেও সেটা জোরালো নয়, বাংলার বড় বড় পণ্ডিত যেমনঃ ড। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বা, ড। মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এই মত মানেন না। যে মানে মানুক না মানে না মানুক আমার নিজের কাছে এটাই বেশী যৌক্তিক মনে হয়।

দুটি বাগধারার জন্মও এই সময়ে বলে ধরে নেয়া হয়। একটি হচ্ছে “মগের মুল্লুক” যার অর্থ অরাজকর দেশ অপরটি “তুর্কি নাচন” যার অর্থ নাজেহাল অবস্থা। ওয়াকিল আহমেদের মতে অন্ধকার যুগ নামে কোন যুগ ছিল না। ঐ সময়েও সাহিত্য রচিত হয়েছে কিন্তু সেই সাহিত্য কেউ গ্রহণ করেনি। 

চর্যাপদের রচয়িতা বৌদ্ধ সহজিয়ারা অন্ধকার যুগে কোন সাহিত্য রচনা করতে পারেননি। ইলিয়াস শাহ এর শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক স্থিরতা ফিরে আসে এবং তখন বাংলা সাহিত্যগুলোও সবার কাছে গৃহীত হয়। সমাজের উচ্চস্তরের লোকদের সাথে লৌকিক স্তরের সমন্বয় ঘটতে অনেক সময় লাগে যার ফলে আধারে ঢাকা ঐ সময়ের উদ্ভব ঘটে। মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্য আবার প্রাণ ফিরে পায়।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশঃ উইকিপিডিয়া এবং ড. সৌমিত্র শেখরের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। (উল্লখ্যঃ লেখাটি মৌলিক, কপি করা নয় )


0 comments:

Post a Comment